Follow by Email

শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১১

অনশন মানে হাপিস!

একরাশ পেট খারাপ নিয়ে বাড়ি ফিরছি। দুরন্ত -তে চেপে, চুপচাপ বার্থে মুখ লুকিয়ে বসে আছি... প্রকৃতির ডাকাডাকি -তে সাড়া দেওয়ার ভয়ে স্রেফ উপোস দেবার ধান্দা করছি। আর দুরন্ত'র ' লোকাল লোক' রা ঘন ঘন খাবার- দাবার এনে আমার আন্না হাজারিয়ানায় ঘুণ ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে!
কি বিপদ! হ্যাংলা বাঙ্গালী কিনা, কাজেই মাগনা খাবারের লোভে দুরন্তয় টিকিট! এদিকে পেট বাবাজি ভারত বনধ ডেকেছেন! আবার জিভেও জলের কান্না! অতএব আমার বিপদের উপর আপদ!!
ধুর ছাই! চাপব ট্রেনে, ভাত খাব না; তাই কখনো হয়?
মন থেকে হ্যাংলামি তাড়াতে বাথরুমের দিকে এগুলাম, ভারতীয় রেলের বাথরুমে গেলে অনেকক্ষণ খিদের কথা মনে পড়ে না। ফিরে সিটে বসতেই কার মোবাইলে ঢং ঢং করে ১২ টার অ্যালার্ম বাজল!
বাইরে জানলার দিকে মন দেব, এম্নি সময়ে খুব জোরে- 'কে বুলা দি? হ্যাঁ গো, আমাদের খুব খাইয়েছে! জানো তো, প্রথমেই তো জলখাবার দিয়ে গেল। স্যান্ডুইচ, শিঙ্গাড়া, আর একটা বড় সাইজের শোনপাপড়ি; তারপর এল ফ্রুটি আর চা! ও ব্বাবা! তার এক ঘন্টা পরেই এল স্যুপ আর কিসের একটা লাঠি! ভাবো, ২ ঘণ্টার মধ্যেই রাতের খাবার দিল! আর সে কত খাবার! আমি তো খেয়ে শেষই করতে পারছি না। ভাত-রুটি- ডাল -মাংস- স্যালাড- মিষ্টি... এই সবে খেয়ে উঠলুম... ও ব্বাবা! দাঁড়াও দাঁড়াও... ঐ দ্যাখো আবার আইস ক্রিম আসছে!..."

আমি আর থাকতে পারলাম না। জোর হেঁকে বেয়ারা -কে রাতের খাবার দিতে বললাম। আর সকালে জলখাবার -টা যে আমার আমিষ হবে, সেটাও জানিয়ে দিলাম!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন